অমনোযোগী ছাত্রদের পড়া শেখানোর কার্যকর উপায়
বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অমনোযোগ একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই পড়ার টেবিলে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটায়, কিন্তু মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। ফলে ফলাফল আশানুরূপ হয় না এবং পড়াশোনার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। কিন্তু অমনোযোগ কোনো দুরারোগ্য সমস্যা নয়—সঠিক উপায়ে শেখালে আমরাও একজন অমনোযোগী ছাত্রকে মনোযোগী করে তুলতে পারি।
চলুন দেখে নেওয়া যাক কীভাবে অমনোযোগী ছাত্রদের কার্যকরভাবে পড়া শেখানো যায় 👇
🎯 ১. প্রথমে কারণ খুঁজে বের করুন
প্রত্যেক ছাত্রের মনোযোগ কমার কারণ এক নয়। কেউ পড়া বুঝতে না পারায় আগ্রহ হারায়, কেউ আবার পারিবারিক বা মানসিক সমস্যায় ভোগে। কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মোবাইল বা টিভি ব্যবহারও বড় কারণ।
👉 তাই প্রথম কাজ হলো — “সে কেন মনোযোগ দিতে পারছে না?” — তা জানা। কারণটি চিহ্নিত করতে পারলে সমস্যার অর্ধেকই সমাধান হয়ে যায়।
📚 ২. পড়া ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুন
অমনোযোগী ছাত্রের মনোযোগের সময়কাল খুবই কম। তাই একসাথে অনেক কিছু শেখানোর চেষ্টা না করে পড়াকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন।
উদাহরণস্বরূপ:
২০ মিনিট পড়া, তারপর ৫ মিনিট বিরতি।
প্রতিদিন এক বা দুইটি মূল বিষয়েই ফোকাস করুন।
এভাবে ধীরে ধীরে মনোযোগের সময় বাড়বে, এবং পড়া আর চাপ মনে হবে না।
🧠 ৩. শেখাকে মজাদার করে তুলুন
বইয়ের বাইরে শেখার অসংখ্য উপায় আছে। অমনোযোগী ছাত্রদের জন্য “খেলার ছলে শেখা” খুব কার্যকর।
ছবি, গল্প, চার্ট, ভিডিও, গান—যে উপায়ে সে আগ্রহ পায়, সেইভাবে শেখান।
ছোট কুইজ বা প্রতিযোগিতা দিন।
ছাত্রকে মাঝে মাঝে শিক্ষক বানিয়ে পড়াতে দিন।
শিক্ষাকে আনন্দের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে মনোযোগ স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে।
🗣️ ৪. প্রশংসা ও উৎসাহ দিন
মনোযোগ কম ছাত্রদের একটুখানি সাফল্যও বড় ব্যাপার। তাই যখনই সে একটু চেষ্টা করে, তাকে প্রশংসা করুন।
বলুন—
“তুমি আজ দারুণ মনোযোগ দিয়ে পড়েছ!”
“তোমার উন্নতি আজ সত্যিই চোখে পড়ছে।”
এই উৎসাহই পরের দিন তাকে আবার পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনবে।
🪑 ৫. মনোযোগী পরিবেশ তৈরি করুন
পরিবেশ মনোযোগের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই—
টিভি, মোবাইল, শব্দ থেকে দূরে পড়ার জায়গা বেছে নিন।
টেবিল পরিষ্কার রাখুন।
আলো পর্যাপ্ত রাখুন এবং বসার স্থান আরামদায়ক হোক।
একটি শান্ত ও সুন্দর পরিবেশ মনোযোগ বাড়ানোর সর্বোত্তম উপায়।
🕒 ৬. সময়ের সঠিক ব্যবহার শেখান
অমনোযোগী ছাত্রদের পড়ার আগে প্রস্তুতির অভ্যাস করানো দরকার।
নির্দিষ্ট পড়ার সময় ঠিক করুন।
“পোমোডোরো টেকনিক” (২০ মিনিট পড়া + ৫ মিনিট বিরতি) ব্যবহার করতে পারেন।
একটি “টু-ডু লিস্ট” তৈরি করতে শেখান।
সময় ব্যবস্থাপনা শেখাতে পারলে তার আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।
🤝 ৭. শিক্ষক ও অভিভাবকের যৌথ ভূমিকা
শিক্ষক ও অভিভাবক একসাথে কাজ করলে ছাত্রের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দ্রুত আসে।
অভিভাবক যদি জানেন শিক্ষক কীভাবে শেখাচ্ছেন, তবে ঘরেও সেই পদ্ধতিতে অনুশীলন করাতে পারেন। এতে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
❤️ ৮. ধৈর্য ও ভালোবাসা—সবচেয়ে বড় ওষুধ
সবশেষে মনে রাখতে হবে—
অমনোযোগী ছাত্রকে বকাঝকা করলে নয়, বরং ভালোবাসা ও ধৈর্য দিয়ে শেখালে সে পরিবর্তন আনে। তাকে এমন অনুভব করান যে,
“আমার শিক্ষক আমার পাশে আছেন, আমি পারব।”
✨ উপসংহার
অমনোযোগ কোনো দোষ নয়, বরং এটি মনোযোগের অনুশীলনের ঘাটতি। শিক্ষকের সঠিক কৌশল, অভিভাবকের সহায়তা ও ছাত্রের আগ্রহ মিলেই এই সমস্যা সহজে কাটানো যায়।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত— “শিক্ষাকে চাপ নয়, আনন্দের জায়গা বানানো।”


No comments