সূর্যমুখী'এর গুণাগুণ এবং উপকারিতা
সূর্যমুখী'এর গুণাগুণ এবং উপকারিতা
সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর উপাদান। যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী যেমন, এতে মজুত আছে
✓ 20% প্রোটিন,
✓ 35-42% তেল
✓ 31% অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড
✓ ভিটামিন হিসেবে রয়েছে এ, বি 3, বি 5, বি 6, ই, ফোলেট
✓ তামা, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, দস্তা, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সেলেনিয়াম এর মত খনিজ উপাদান
✓ ডায়েটি ফাইবার আর প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড (লিনোলিক অ্যাসিড, ওলাইক অ্যাসিড) পাওয়া যাবে এই বীজটিতে।
উপকারিতা সম্পর্কে জানুন
সূর্যমুখীর উপকারীতা অনেক। কারণ এর থেকে সংগৃহীত বৃক্ষ থেকে বীজ সবই কাজে লাগানো যায়। এর প্রতিটি অংশের আলাদা আলাদা বেনিফিট রয়েছে। আজ তারই আয়োজন করা হয়েছে।
✓ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে
উচ্চ রক্তচাপের কারনে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের কারন।সূর্যমুখীর বীজের উপাদান ম্যাগনেসিয়াম আপনার রক্তচাপ কমিয়ে রক্তনালীকে শিথিল রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড বিশেষ করে লিনোলিক এসিড নিম্ন রক্তচাপে অবদান রাখে।
✓ হাঁড় মজবুত এবং গঠনে ভূমিকা রাখে
মানুষ ত্রিশ উর্ধ্বে হলেই হাড় ক্ষয় বা জয়েন্টে নানান সমস্যা দেখা দেয়।এমন সমস্যায় থাকলে আপনাকে সাহায্য করবে সূর্যমুখীর বীজ। এতে উচ্চমানের ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম। যা আপনার হাঁড়ের কাঠামো শক্তিশালী করে তোলে এবং জয়েন্টগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
✓ সূর্যমুখী বীজ হজমে সহায়তা করে
আমাদের প্রায়শই হজমের সমস্যায় ভুগতে হয়। সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য তো আছেই। নিয়মিত সূর্যমুখীর বীজ গ্রহনের ফলে আপনাকে এমনসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিবে। এতে আছে উন্নত ডায়েটারি ফাইবার যা আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেবে।
সূর্যমুখী কেন সূর্যের মুখী হয় ?
সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলেই এমন নামকরণ। কিন্তু কেন এই ফুলটি সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে ? কি তার আসল কারণ,আজ সেই বিষয়ে আলোচনা হবে।
গাছের বৃদ্ধি ও শারীরিক কার্যকলাপের জন্য বিভিন্ন ধরণের হরমোন সাহায্য করে। এমনি একটি হরমোন হল অক্সিন।এই হরমোনের নানা কাজের মধ্যে রয়েছে কান্ড ও পাতার বৃদ্ধি। এই হরমোন কান্ড ও পাতা প্রসারিত করে।
এই অক্সিন হরমোনই আবার ফটোট্রপিক ক্রিয়ার জন্য দায়ী। আলোর সাথে উদ্ভিদের যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া তাই-ই হল ফটোট্রপিক ক্রিয়া। অক্সিন হরমোনের যে পাশে সূর্যের আলো পড়েনা অর্থাৎ যে পাশে ছায়া থাকে সে পাশে দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
এটি উদ্ভিদের যে অংশে থাকে সেখানে pH এর পরিমান কমিয়ে দেয়। ফলে এর সেলুলোজ কোষগুলো ফেটে যায়। ফলে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়। এই চাপই সূর্যমুখী ফুলকে সূর্যের দিকে ঘুরতে বাধ্য করে। পরিপূর্ণ সূর্যমুখী ফুল কিন্তু ঘুরে না, পূর্বদিকে মুখ করে রাখে।
সূর্যমুখী বীজ রক্তে শর্করার পরিমাণ হ্রাস করে। এতে বিদ্যমান ভিটামিন ই আপনার দেহের প্রদাহজনিত রোগের জন্য কাজ করে। ফ্লাভিনয়েডসও শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ওজন হ্রাসে সূর্যমুখীর বীজ। সূর্যমুখী ফুল মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করে। এছাড়াও অনেক উপকারে আসে সূর্যমুখী।


No comments