কারামত, কাশফ ও এলহাম
কারামত, কাশফ ও এলহাম
বুযুর্গদের কাশফ, কারামত, এলহাম এবং গাউস, কুতুব ও আবদাল সম্বন্ধে আকীদা। জেনে রাখুন সঠিক মাসআলা।
নবী-রাসূল ব্যতীত যেসব খাস বান্দা আল্লাহ তা‘আলার হুকুম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম'এর ত্বরীকা মত চলেন, নাফরমানী করেন না এবং আল্লাহ তা‘আলাকেই স্বীয় কর্মের অভিভাবক মনে করেন। তাদের ধ্যান ধারনা সবসময় আল্লাহর দিকেই থাকে, পরিভাষায় তাদেরকে বুযুর্গ বা ওলী আওলিয়া বলা হয়।
আল্লাহ তা‘আলা বুযুর্গদের থেকে কখনো কখনো কারামত এর বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তবে তা বুযুর্গ হওয়ার জন্য শর্ত নয় অর্থাৎ বুযূর্গ হলে কারামত দেখাতেই হবে এমনটি নয়, এই পৃথিবীতে অনেক ওলি আওলিয়া আছেন যাদের কোন কারামত কখনো প্রকাশ পায়নি।
যারা শরী‘আতের ধার ধারেনা, আকাম কুকাম সব করে আবার নিজেকে পীর, বুযুর্গ বলে দাবী করে, সাধারন মানুষ না বুঝে এদেরকে পীর বললেও এরা হক্কানী পীর নয় এরা হলো ভন্ডপীর। এরা অলৌকিক কোন কিছু দেখালে সেটাকে কারামত মনে করা যাবেনা বরং বুঝতে হবে সেটা যাদু, ভেল্কিবাজী কিংবা কৌশল কারসাজী।
✓ কারামত
নবী নন - এমন কোন বুযুর্গ ব্যক্তি থেকে প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম কোন বিষয় সংঘটিত হওয়া কিংবা বুযুর্গ বা ওলী আওলিয়াদের আল্লাহ তা‘আলা যেসব অসাধারণ কাজ দেখিয়ে থাকেন পরিভাষায় তাকে কারামত বলা।
✓ কাশফ ও এলহাম
জাগ্রত বা নিদ্রিত অবস্থায় বুযুর্গরা যেসব ভেদের কথা জানতে পারেন বা চোখের অগোচর জিনিসকে দিলের চোখে দেখতে পারেন তাকে বলা হয় কাশফ ও এলহাম।
কারামত এবং কাশফ, এলহাম 'এর মাসআলা
বুযুর্গদের কারামত, কাশফ ও এলহাম সত্য। কারামত সত্য হওয়া কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কুরআনে কারীমে বর্ণিত হযরত মারইয়ামের কাছে অমৌসুমী ফল আসা এবং আসিফ ইবনে বারখিয়া কর্তৃক ইয়ামেন হতে বিলকীসের সিংহাসন মূহুর্তে সুলাইমান আ: এর দরবারে উপস্থিত করা সবই কারামতের অন্তর্ভুক্ত।
কাশফ ও এলহাম শরী‘আতের মুতাবেক হলে তা গ্রহণযোগ্য অন্যথায় নয়। কাশফ ও এলহাম শরী‘আতের দলীল নয় এর দ্বারা কোন আমল প্রমাণিত হয়না। কারামত কাশফ এলহাম বুযুর্গ এবং ওলীদের দ্বারাই হয়ে থাকে, যারা আল্লাহ তা‘আলার পরম প্রিয় বান্দা।


No comments