শরীরে রক্ত স্বল্পতার সাধারণ লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার
শরীরে রক্ত স্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া (Anemia) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিন থাকে না। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। বাংলাদেশে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা বেশ সাধারণ।
∆ রক্ত স্বল্পতার সাধারণ লক্ষণ
রক্ত কমে গেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন,
✓ সবসময় দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা
✓ সামান্য কাজেই হাঁপিয়ে যাওয়া
✓ মাথা ঘোরা বা চোখে ঝাপসা দেখা
✓ মুখ, ঠোঁট বা হাত-পায়ের তালু ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
✓ বুক ধড়ফড় করা
✓ মাথাব্যথা হওয়া
✓ হাত-পা ঠান্ডা থাকা
✓ মনোযোগ কমে যাওয়া
✓ ঘন ঘন অসুস্থ লাগা
✓ চুল পড়া ও নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া
∆ শিশুদের ক্ষেত্রে আরও দেখা যেতে পারে—
✓ খেতে অনীহা
✓ স্বাভাবিকের তুলনায় কম বেড়ে ওঠা
✓ অতিরিক্ত খিটখিটে আচরণ
∆ কেন রক্ত স্বল্পতা হয়?
রক্ত স্বল্পতার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো—
১. আয়রনের ঘাটতি
এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। শরীরে আয়রন কম থাকলে হিমোগ্লোবিন তৈরি কমে যায়।
২. ভিটামিনের অভাব
বিশেষ করে ভিটামিন বি১২ ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি।
৩. অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
অতিরিক্ত মাসিক
পাইলস
দুর্ঘটনা
পেটে আলসার
৪. দীর্ঘমেয়াদি রোগ
কিডনি রোগ, লিভারের সমস্যা বা কিছু দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণও অ্যানিমিয়ার কারণ হতে পারে।
৫. কৃমি সংক্রমণ
বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এটি একটি বড় কারণ।
∆ রক্ত বাড়াতে যেসব খাবার উপকারী
✓ আয়রনসমৃদ্ধ খাবার
✓ কলিজা
✓ গরুর মাংস
✓ ডিমের কুসুম
✓ পালং শাক
✓ লাল শাক
✓ বিট
✓ খেজুর
✓ কিসমিস
✓ ডাল ও ছোলা
✓ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার। ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে। যেমন, লেবু, কমলা, আমড়া, পেয়ারা ইত্যাদি।
∆ প্রতিকার ও করণীয়
√ নিয়মিত পরীক্ষা করানো
রক্তে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করলে অ্যানিমিয়া ধরা পড়ে। প্রয়োজনে ডাক্তার CBC টেস্ট দিতে পারেন।
√ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
সুষম খাদ্য নিয়মিত খেলে অনেক সময় রক্ত স্বল্পতা প্রতিরোধ করা যায়।
√ কৃমির ওষুধ খাওয়া
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর কৃমির ওষুধ খাওয়া উপকারী।
√ আয়রন ট্যাবলেট
ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি১২ ট্যাবলেট দিতে পারেন। নিজে নিজে দীর্ঘদিন ওষুধ না খাওয়াই ভালো।
∆ কখন দ্রুত ডাক্তার দেখানো জরুরি?
নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
√ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
√ বুকব্যথা
√ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
√ রক্তবমি বা কালো পায়খানা
√ খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়া।
রক্ত স্বল্পতা অবহেলা করলে শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তবে সঠিক খাবার, নিয়মিত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।


No comments