সিজারিয়ান মায়ের সঠিক যত্ন এবং চিকিৎসা
সিজারিয়ান মায়ের সঠিক যত্ন
এবং চিকিৎসা
নানান সমস্যার কারণে মায়ের তলপেটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু ভূমিষ্ঠ করা হয়। এই অস্ত্রোপচারের নাম সিজারিয়ান। এক সময় এর নাম শুনলেই মানুষ আঁতকে উঠতো, কিন্তু হতে হতে আজ এটি খুবই স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসার উন্নতি হয়েছে, হাসপাতাল অনেক হয়েছে,ডাক্তার বেড়েছে,তাই সুচিকিৎসা এখন হাতের নাগালেই।
এখানে অবহেলা করলেই ইনফেকশন, ক্ষত, জীবাণুর মতো মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে শিশু জন্ম নেয়ার পর সেই মায়েদের জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, সুচিকিৎসা এবং সেবা। সিজারিয়ান মায়েদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আজকে আলোচনা হবে।
Proper care and treatment of cesarean mother
✓ সিজারিয়ান মায়েদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত ভারী কাজ করা পুরোপুরি নিষেধ। কারণ তখন সেলাইয়ে নাড়াচাড়া করলে সেখানে ব্যথা হবে,সময় মতো সেলাই শুকাবে না। দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত স্বামী সহবাসও নিষেধ।
✓ প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। প্রচুর পরিমাণ তরল জলখাবার যেমন দুধ, স্যুপ, ফলের রস ইত্যাদি খেয়ে যেতে হবে। কেননা শিশুকে স্তন্যপান করানোর জন্য শরীরে প্রচুর পানির উপস্থিতি প্রয়োজন।
✓ সবসময় অবশ্যই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সাবান ব্যবহার করে মা গোসল করতে পারেন। গোসলের পর সাবধানে তোয়ালে দিয়ে সেলাইয়ের যায়গা মুছে নিন। জীবাণুরোধী মলম ব্যবহার করতে পারেন।
✓ ব্রাউন চাল,গম,ওটস, ডাল খাবারের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এগুলোতে আছে আয়রন, ফলিক এসিড ও ফাইবার যা কিনা মায়ের সুস্বাস্থ্য ও অপারেশন পরবর্তী কোষ্ঠ্য -কাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করবে।
✓ খেয়াল রাখতে হবে যে, বাচ্চা জন্মের পরই শালদুধ খাওয়াতে হবে বাচ্চাকে, এটা শিশুর জন্য খুব উপকারী। অস্ত্রোপচার কিংবা স্বাভাবিক প্রসব হোক, অবিলম্বে মায়ের বুকে দিতে হবে। মায়ের ত্বকের সংস্পর্শ শিশুকে স্বাভাবিক তাপমাত্রা পেতে সাহায্য করে।
✓ প্রসব পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রেহাই পেতে প্রচুর আঁশযুক্ত খাদ্য খেতে হবে। এটি প্রসব পরবর্তী সকল মায়েদের হয়ে থাকে। বুকের দুধের জোগান ঠিক রাখতে ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেতে হবে।
✓ সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল মায়ের খনিজ ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করবে। ফুলকপি , বাঁধাকপি , লাউ , কলমিশাঁক, লাল শাক,যেগুলো প্রচুর ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি, আয়রন ও ক্যালসিয়াম আছে।অস্ত্রোপচারের সময় যে রক্তক্ষরণ হয়েছিল, তা পূরণ করতে প্রচুর আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
✓ সিজারের পরদিনই মা স্বাভাবিক হাঁটাচলা ও কাজকর্ম করতে পারবেন। তবে মেরুদণ্ডে চেতনানাশক ইনজেকশন ব্যবহার করায় পরে কোমরে ও মাথায় ব্যথা হতে পারে। অস্ত্রোপচারের পরপর বেশ কিছুক্ষণ সোজা হয়ে শুয়ে থাকলে এটি কম হয়।
সিজারের রোগীদের কাটা স্থানের খুব যত্ন নিতে হবে। প্রতিদিন কুসুম কুসুম গরম পানিতে নরম সুতি কাপড় ভিজিয়ে পরিস্কার করতে হবে। সেলাইয়ের যায়গায় যেন ইনফেকশন না হতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জোরে চাপ দিয়ে বসা যাবে না এবং জোরে চাপ দিয়ে উঠা যাবে না। সিজারের পর প্রচুর বিশ্রাম নিতে হবে,যদিও বাচ্চার কারণে এটি কঠিন হয়ে পড়ে তবুও বাচ্চা যখন ঘুমাবে মাকেও ঘুমিয়ে নিতে হবে।
বাচ্চার এবং নিজের যত্নে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিতে হবে। সময় মতো খাওয়া দাওয়া সেরে নিতে হবে। সময় মতো পায়খানা প্রস্রাব এবং গোসলের কাজ সেরে নিতে হবে। এসময় বাচ্চার অবহেলা করা যাবেনা, আবার বাচ্চার যত্ন নিতে গিয়ে নিজের অবহেলা করলেও হবেনা কারণ আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে বাচ্চার অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে।


No comments