সুন্দরবন

THE ROAR | গর্জন |



A N I |
14 | SEPTEMBER | 2019 |
THE ROAR | গর্জন |

■ প্রাক কথা ।
বাংলাদেশের অংশ ৬,০১৭ বর্গ কি.মি.আয়তনের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম
ব-দ্বীপ, দীর্ঘতম লবণাক্ত জলাভূমি এবং জীব বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম। এখানে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিদ্যমান, যার মধ্যে আছে ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং বিশ্ব বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার। প্রধান সরীসৃপ জাতিগুলোর মধ্যে আছে নোনা পানির কুমির, অজগর, গোখরা, গুইসাপ, সামুদ্রিক সাপ, গিরগিটি, কচ্ছপ এবং অন্যান্য। প্রায় ৩০ প্রজাতির সাপ সুন্দরবনে পাওয়া যায়। জলাভূমি হিসাবে রামসার এলাকার সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় সুন্দরবনকে ১৯৯২ সালে ৫৬০ তম রামসার এলাকা হিসাবে যোষণা করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।

■ সুন্দরবনের ইতিহাস
প্রাচীনকাল থেকেই সুন্দরবনের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিকগণ মনে করেন প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে গাঙ্গেয় বদ্বীপ এলাকায় সুন্দরবনের সৃষ্টি হয়।‘নিকোলাস পাইমেন্টা’ নামীয় একজন মিশনারীর ভ্রমণ কাহিনীতেও সুন্দরবনের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।
মুঘল আমল (১২০৩-১৫৩৮) থেকেই সুন্দরবনকে স্থানীয় রাজাদের নিকট পত্তন/ইজারা দেয়া হত। কালের বিবর্তনে বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনকে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়। মুঘল সম্রাট আলমগীর-২ এর নিকট হতে ১৭৫৭ সনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উক্ত সুন্দরবনের স্বত্ব লাভ করে এবং ১৭৬৪ সনে সার্ভেয়ার জেনারেল  কর্তৃক জরিপ পূর্বক মানচিত্র তৈরি করে।
বেঙ্গল বন বিভাগ (Forest Department in Bengal) স্থাপনের পর বন আইন-১৮৬৫ মোতাবেক ১৮৭৫-১৮৭৬ সনে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৬৯ সনে সুন্দরবনকে জেলা প্রশাসনের নিকট হতে খুলনা শহরে নবসৃষ্ট বন ব্যবস্থাপনা বিভাগ এর নিকট ন্যস্ত করা হয় এবং ৬৯-৭৩ সনে সুন্দরবনে প্রথম জরিপ করা হয়।
সুন্দরবনের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য ১৮৬৩ সাল হতে ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত  বহু ব্রিটিশ বন কর্মকর্তা সুন্দরবন পরিদর্শন করেন এবং সুন্দরবনকে সংরক্ষণ ও গাছ আহরণের বিষয়ে আইন প্রণয়নের  সুপারিশ করেন।

■ কিভাবে যাওয়া যায় ।
ঢাকা থেকে সরাসরি খুলনা যাওয়ার বাস, ট্রেন এবং লঞ্চ ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা থেকে সোহাগ, হানিফ ও ঈগল পরিবহনের বাস নিয়মিতভাবে ভোর ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ঢাকা থেকে সড়ক পথে খুলনা যেতে প্রায় ৮ ঘন্টা লাগে। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে খুলনা যাবার বিভিন্ন কোম্পানির লঞ্চ রয়েছে। খুলনা থেকে সুন্দরবন দেখতে হলে ৫০ কিলোমিটার দূরে মংলায় যেতে হবে। খুলনা থেকে মংলা যাওয়ার প্রাইভেট গাড়ি ও বাস রয়েছে। মংলা ঘাট থেকে ট্রলার কিংবা লঞ্চ ভাড়া নিয়ে দুই ঘন্টায় সুন্দরবনের করমজল যাওয়া যায়। চাইলে সকাল বেলা খুলনা থেকে মংলা হয়ে সুন্দরবন দেখে সন্ধ্যায় খুলনা ফিরে আসা যাবে।

সুন্দরবন ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত। সুন্দরবনের ভারতীয় অংশের আবাসস্থল ভালভাবে রাস্তাঘাট ও রেলপথ উভয় দ্বারা কলকাতার সঙ্গে সংযুক্ত।

গোদখালী পোর্ট- এটি গোসাবা দ্বীপ এবং গোসাবার বিপরীতে সংরক্ষিত সুন্দরবনের সজনেখালি অভ্যয়ারণ্য এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় প্রবেশের আগে শেষ মনুষ্য বসতি। কলকাতার থেকে গোথখালী পোর্টের দূরত্ব কমপক্ষে ৮২ কিলোমিটার এবং কলকাতার বিমানবন্দর (নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) থেকে 95 কিলোমিটার।
কৈখালী - সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনভূমির বনানী ক্যাম্প, কালাস আইল্যান্ড এবং সমুদ্র সৈকত, হলিডে দ্বীপ, হলিডে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ইত্যাদির মতো পর্যটক আকর্ষণ রয়েছে কৈখালীর কাছাকাছি। কৈখালী কলকাতা থেকে ৮৩ কিলোমিটার এবং কলকাতার বিমানবন্দর থেকে ৯২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
নামখানা- কলকাতা থেকে ১১৭ কিমি এবং কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ১২৩ কিমি দূরে অবস্থিত। নামখানাও কলকাতা থেকে রেললাইনের সাথে সংযুক্ত এবং দূরত্ব ১০৯ কিলোমিটার। এখানে ভাগবতপুর কুমির প্রকল্প এবং সুন্দরবনের লোথিয়ান বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে।
ক্যানিং- সুন্দরবনের বাঘ প্রকল্পের নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন। কলকাতা থেকে কানিং পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার এবং গোদখালী পোর্ট থেকে ২৯ কিলোমিটার দূরে। কানিং এবং গোদখালী পোর্টের মধ্যে গন পরিবহণ ব্যবস্থা পাওয়া যায়।

THANK YOU ALL.
A N I .

No comments

Powered by Blogger.