খবর পত্র

THE NEWSPAPER | খবর পত্র |



A N I |
13 | SEPTEMBER | 2019 |
THE NEWSPAPER | খবর পত্র |

বাংলাদেশী দৈনিক পত্রিকা । 

【1】 প্রথম আলো ।
【2】 জনকন্ঠ ।
【3】 ইত্তেফাক ।
【4】 বিডি নিউজ২৪ ।
【5】 ঢাকা নিউজ ।
【6】 কালের কণ্ঠ ।
【7】 ইনকিলাব ।
【8】 সমকাল ।
【9】 বাংলা টাইমস ।
【10】 আমাদের সময় ।
【11】 আমার দেশ ।
【12】 নয়া দিগন্ত ।
【13】 সুপ্রভাত বাংলাদেশ ।
【14】 যুগান্তর ।
【15】 বেঙ্গলি টাইমস ।
【16】 ডেইলি স্টার ।
【17】 রিয়েলটাইম নিউজ ।
【18】 বিবিসি বাংলা ।
উল্লেখযোগ্য ।




■ মুল আলোচনা ।
খবরের কাগজ পড়ার অভ‍্যাস করা ।
কিছু কিছু মানুষ আছেন যারা সকালে চা পান না করে থাকতে পারেন না, আবার কিছু কিছু মানুষ আছেন যারা ধুমপান না করলে তাদের বাথরুম হয়না। একইভাবে কিছু মানুষ চমৎকার এক অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। তারা সকাল বেলা পত্রিকার পাতায় চোখ না বুলিয়ে থাকতে পারেন না।কেউ কেউ আছেন সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা কোনদিকে মোড় নিচেছ, কোন বিচার কতদূর আগাচেছ, নতুনভাবে আরও কেউ অ্যরেষ্ট হলো কিনা এগুলো পত্রিকার পাতায় দেখেন। তারা পত্রিকায় দেশি ও বিদেশি অনেক বিষয়ের বিশ্লেষণমূলক লেখা খোঁজেন এবং সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য উদগ্রীব থাকেন। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ ধরনের অভ্যাস দেখা যায়। চমৎকার অভ্যাস! কেউ কেউ গভীর আগ্রহ নিয়ে সপ্তাহের একটি বিশেষ দিন ( সাধারনত শুক্রবার) পত্রিকার সাহিত্য পাতা পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন।আবার করুর পছন্দ খেলার খবর। কোন ক্রিকেটার কয়টি ছক্কা মারলেন, কিভাবে মারলেন,কোন ফুটবলার কিভাবে কিক করলেন, কিভাবে গোল দিলেন, কেন গোল মিস করলেন ইত্যাদি খবর পত্রিকার পাতা থেকে লুফে নেয়ার চেষ্টা করেন। সাহিত্যের পাতার জন্য যরা অপেক্ষা করেন তাদের নিকট খেলাধুলার পৃষ্ঠগুলো হয়তো কোন আকর্ষণই সৃষ্টি করেনা। আবার যারা তাদের পছন্দের কলামিষ্টদের কলাম খোঁজেন তাদের কাছে উপরোল্লিখিত কোন বিষয়ই হয়তো ততটা আকর্ষণ করেনা।

আবার পত্রিকা সম্পর্কে কারুর কারুর বিরুপ মন্তব্যও আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কিছু শিক্ষকদের বলতে শুনেছি ’ পত্রিকা রাবিশ! কি যে রাবিশ লেখে, কিযে যা তা লেখা থাকে পত্রিকায়। ভাষা ভুলে ভরা।’ বিশেষ করে ইংরেজি পত্রিকা সম্পর্কে তাদের এ ধরনের মনোভাব। এ ধরনের শিক্ষকগন মনে করেন যে, জার্ণালের লেখাই একমাত্র পরিশুদ্ধ ও গবেষণাধর্মী। হাঁ, জার্ণাল অবশ্যই একটি স্কলারলি প্রকাশনা। এখানে গবেষণাধর্মী বিষয়গুলোই লিখিত হয়। তাই বলে পত্রিকার লেখা যে একেবারেই রাবিশ বা বাজে তা বলার কোন সুযোগ নেই। জার্ণালের লেখা একটি বোর্ড যেমন বাছাই করে, পত্রিকার লেখাও তেমনিভাবে বাছাই করা হয় অন্তত বেশ কিছু পত্রিকার ক্ষেত্রে। জার্ণালে ক’জনের একসেস আছে? ক’জন তা নিয়মিত পড়তে পারেন? তাছাড়া কিছু কিছু আন্তর্জাতিক জার্ণাল এমনও আছে যে লেখা ছাপার জন্য অর্থ দাবী করে। আপনি অর্থ দিবেন আপনার আর্টিকেল তারা ছেপে দিবে। আমাকে তো প্রতিমাসেই দু’একটি জার্ণাল চিঠি পাঠায়। অর্থ দাবী করে। অর্থ দিলেই তারা লেখা ছাপাবে। এই সুযোগতো অনেকেই নেন, নিয়ে পাবলিকেশন বাড়ান। তাই বলে কি আমরা বলব যে, জার্ণালে লেখা বের হলেই তা গবেষণাধর্মী এবং খুব উচঁমানের? আর জার্ণালের লেখা তো বিভিন্নজনের ’ রেফারেন্সে’ ভর্তি থাকে। কোন লেখকের নিজের মতামত সেখানে কতটুকু স্থান পায়?আবার এমনকিছু সুপারিশ অনেক লেখক জার্ণালে তুলে ধরেন যেগুলো বাস্তবসম্মত নয়। শুধু লেখার জন্যই লেখা।

ব্যস্ততার যুগে মানুষের সময় কম। স্বল্প পরিসরে তারা অনেক তথ্য পেতে চায় অল্প সময়ে।পাঠকদের এই চাহিদাটিউ পূরণ করে সংবাদপত্র।

অবার পত্রিকার লেখা যে বিশ্লেষণধর্মী বা গবেষণাধর্মী নয় তাও বলা যাবেনা। বেশ কিছু পত্রিকা আছে (বাংলা ও ইংরেজি) যারা বিশেষ বিশেষ বিষয়ের ওপর (পাবলিক পরীক্ষার ফল, ড্রপ আউট, বাল্যবিবাহ, টয়লেট ব্যবহার, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড) বিশ্লেষণ ও গবেষণাধর্মী তথ্যই পরিবেশন করে। কোন বিষয়ের বর্তমান অবস্থা, অতীতে কেমন ছিল, পরিবর্তনের সম্ভাব্য কারণসমূহ, এর সাথে জড়িতদের মতামত ইত্যাদি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয় কিছু পত্রিকায়। কলাম লেখকগনও কোন বিষয়ের গভীরে যান এবং নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন, সম্ভাব্যতা যাচাই করেন এবং বিশ্লেষণ ও গবেষণাধর্মী তথ্য পরিবেশন করেন। অনলাইন পত্রিকা হওয়ার সুবাদে এখন অনেকেই কাজের ফাঁকে, অবসর সময়ে কম্পিটারের পর্দায় তাকিয়ে, মোবাইলের স্ক্রীণে দ্রুত পত্রিকা পড়ে ফেলেন। দিনের প্রয়োজনীয় সংবাদটুকু জেনে নেন। তাছাড়া যার যেদিকে আগ্রহ তিনি সেদিকে একটু বেশি সময় দিয়ে সেসব বিষয় পড়ে নেন। বাংলাদেশের যেসব লোক বিদেশে আছেন তারা তো রীতিমত অনলাইন পত্রিকা নিয়মিত পড়েন এবং দেশ সম্পর্কে, দেশের নামকরা ব্যক্তিত্বদের লেখা পড়েন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে যেসব শিক্ষার্থীরা থাকেন তাদের একটি চমৎকার সুযোগ আছে সব ধরনের পত্রিকা পড়ার। তারা কমনরুমে সব ধরনের পত্রিকা পড়েন। অনেকেই খুঁটে খুঁটে পড়েন, তারা যে কোন প্রতিযোগিতামুলক পরীক্ষায় ভাল করে।অনেক বিষয়ে তারা মতামত প্রকাশ করতে পারে নিদ্বির্ধায়। অতি সম্প্রতি কিছু পত্রিকা নতুন লেখক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের লেখা আহবান করে এবং আমি দেখেছি অনেক শিক্ষার্থীর লেখা পত্রিকাগুলোতে গুরুত্বের সাথে ছাপা হচেছ। একজন শিক্ষার্থী যখন কিছু পত্রিকায় লেখেন তার অর্থ হচেছ তার ব্যবহৃত ভাষা গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে। ফলে তার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। ছাত্রজীবনে অনেক প্রথম বিভাগ পাওয়া বা প্রচলিতঅর্থে যাদেরকে মেধাবী বলা তাদের অনেককেই দেখেছি এই বিষয়টির প্রতি খুব আগ্রহ বা নজর নেই।অবশ্য তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও হয়েছেন। জানিনা এখন তাদের আগ্রহ এ বিষয়ে কিছুটা বেড়েছে কিনা না কি পত্রিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে বিরুপ মন্তব্য করেন।

অনেক শিক্ষার্থী এবং কিছু শিক্ষকও আমাকে জিজ্ঞেস করেন সহজ উপায়ে ইংরেজি শেখার পথ কি। আমি বলি সহজ উপায়ে একটি বিদেশী ভাষা শেখার পথ আমার জানা নেই। তবে, উপায় একটি আছে আর সেটি হচেছ নিয়মিত ইংরেজি পত্রিকা পড়া।নিত্যদিন আমাদের চারদিকে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী যখন ইংরেজি পত্রিকায় লিখিত হয় আর সেগুলো যখন একজন পাঠক পড়েন, তিনি বিষয়গুলো সহজেই বুঝতে পারেন আর তার সাথে যোগ হয় তার ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধি। নিয়মিত ইংরেজি পত্রিকা পাঠকদের ইংরেজি দক্ষতা তাদের অজান্তেই বেড়ে যায়। কারন ইংরেজি দক্ষতাভিত্তিক বিষয়, কন্টেন্ট বিষয়ক নয় যে শুধু ন্যারেশনের কিংবা ভয়েস চেইঞ্জের কিছু নিয়ম শিখলেই ভাষাটি জানা হয়ে যাবে। এটি হচেছ নিয়মিত চর্চার বিষয়। তারসাথে অতিরিক্ত সুবিধা এনে দেয় যদি একটি বাংলা পত্রিকা সাথে রাখা হয়। অর্থাৎ বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা পাশাপাশি পড়লে ইংরেজি শেখার জন্য আর কোচিং সেন্টারে যেতে হবেনা, এমনকি শিক্ষকদের কাছেও যেতে হবেনা। ছাত্রজীবনের পরবর্তী জীবনে যারা ভাল করতে চান তাদের সকলের উচিত বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা যত্নসহকারে পড়া।


আর একটি বিষয়ে পত্রিকার সম্পাদকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে চাই। সেটি হচেছ-শিক্ষানিয়ে প্রতিটি পত্রিকাই সপ্তাহে অন্তত একদিন একটি বিশেষ পাতা বের করতে পারে। বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, শিক্ষা গবেষক এবং শিক্ষার্থীরাও তাদের মতামত, সমস্যাবলী, পরামর্শ, উপদেশ, শিক্ষাদানের আধুনিক পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে একটি পাতা বের করতে পারে। হাজার হাজার নয় লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এ পাতা থেকে উপকৃত হতে পারেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির এটি একটি অন্যতম উপায়। পত্রিকার সম্পাদকগন বিষয়টি ভেবে দেখবেন আশা করি। বর্তমানে শুধু মডেল প্রশ্ন ছাপা হয় পত্রিকার পাতায়, সেটি পুরিাপুরি সৃজনশীল বিষয় নয়। সেটি থাকুক এক ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য কিন্তু তার সাথে প্রকৃত সৃজনশীল বিষয়ের চর্চা হবে যদি পত্রিকা এ ধরনের একটি পৃষ্ঠা সপ্তাহে একদিন সম্ভব না হলেও অন্তত মাসে দুইবার অর্থাৎ পাক্ষিক একটি ’শিক্ষা পাতা’ বের করতে পারে।

বাংলাদেশে শিক্ষিত লোকদের মধ্যে শতকরা কতজন প্রতিদিন নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠ করেন, কত শতাংশ ইংরেজি, কত শতাংশ বাংলা, কত শতাংশ দুই ধরনের পত্রিকাই পড়েন তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। শতকরা কতজন পত্রিকা কিনে পড়েন, কতজন অন্য সোর্স থেকে পড়েন? সোর্সগুলো কি কি? শতকরা কতজন অনলাইন পেপার পড়েন, কতজন কাগজকপি পড়েন? বড় বড় শহরের শতকরা কতজন বাংলা পত্রিকা, কতজন ইংরেজি পত্রিকা পড়েন? কে কি উদ্দেশ্যে পড়েন। জেলা শহরের শতকরা কতজন পড়েন, গ্রামের শতকরা কতজন পড়েন? শতকরা কতজন শুধু রাজনৈতিক সংবাদ পড়েন, কতজন খেলার সংবাদ পড়েন, কতজন শিক্ষা সংক্রান্ত সংবাদ পড়েন, কতজন এডিটরিয়াল পড়েন, কতজন গভীরভাবে পড়েন, কতজন হালকাভাবে পড়েন? কতজন লোকাল নিউজপেপার পড়েন, কতজন জাতীয় পত্রিকা পড়েন? এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। কোন সংস্থা এগিয়ে এলে আমার আগ্রহ রয়েছে এ বিষয়টি নিয়ে একটি গবেষণা করার।

আমাদের মনে রাখতে হবে, শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় এবং শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ থাকেনা। এটি উন্মুক্ত। শিক্ষা ছড়ানো ও ছিটানো থাকে সর্বত্র। যারা বিভিন্ন সোর্স থেকে শিক্ষা গ্রহন করতে পারেন, তারাই জীবনে সফলকাম হন। আমাদের শিক্ষকদের বিভিন্ন সোর্স থেকে শিক্ষা গ্রহন করা প্রয়োজন এই যুগের শিক্ষার্থীদের জানাার নানামুখী চাহিদা পূরন করার জন্য। আর জাতীয় সংবাদপত্রসমূহ জ্ঞানার্জনের একটি সমৃদ্ধ মাধ্যম।
লেখক: ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত প্রাক্তন ক্যাডেট কলেজ শিক্ষক।

THANK YOU ALL.
A N I .

No comments

Powered by Blogger.